

দ্য মহাভারত কোয়েস্ট : দ্য আলেকজান্ডার সিক্রেট
প্রত্নতত্ত্ববিদদের একটা দল গ্রিসে ২০০০বছর ধরে লুকিয়ে থাকা একজন রানীর সমাধির খোঁজ করেন। সেই দলেরই একজন হলো বিজয় সিং এর প্রাক্তন প্রেমিকা এলিস। ঘটনাক্রমে সমাধির ভেতর রানীর মমির সাথে বিশাল এক সাপের মূর্তি খুঁজে পায় যার পাঁচটি মাথা। এ ছাড়াও কিছু ছোটছোট মূর্তির সাথে একটা আইভরি কিউব খুঁজে পায় এলিস। কিউবটার গায়ে অজানা ভাষায় খোদাই করে কিছু লিখা আছে। রাতের আঁধারে অজানা শত্রুর কবল থেকে বাঁচার জন্য মনের পূর্ণজোর দিয়ে গাড়ি ছুটিয়ে চলে এলিস। আত্মশক্তিতে ভরসা রেখে টক্কর দেয় শক্তিশালী হেলিকপ্টারকেও। শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাচিয়ে চলে আসে ভারতে। সেখানে আগে থেকেই ইন্ডিয়ান টাস্ক ফোর্স অনুসন্ধানে লেগে আছে নিউ দিল্লির এক গোপন গবেষণাগারে পাওয়া ব্যাখ্যার অতীত অসংখ্য মৃতদেহর রহস্য নিয়ে, যার প্রধান ইমরান। গভীর রাতে এলিসকে দূর্গে দেখে যারপরনাই অবাক হয়ে যায় বিজয় সিং। কলিন দূর্গে বিজয়ের সাথে থাকলেও কিছুদিন ধরে বিজয় দূর্গের পাঁচ তলায় তার বাবা মায়ের রেখে যাওয়া অসংখ্য গবেষণার কাগজপাতি নিয়ে পরে থাকে বিজয়। এমন সময়ে হঠাৎ এলিসকে আশা করেনি বিজয়। এলিসের সাথে সম্পর্ক আরো দশ বছর আগেই শেষ হয়েছে তার। এখন তার বর্তমান ড. শুক্লার একমাত্র মেয়ে রাধা। যে কিনা পরদিনই দূর্গে আসে। এলিস লক্ষ্য না করলেও যে অজানা শত্রুর হাত থেকে বাঁচার জন্য গ্রিস থেকে পালিয়ে ভারতে এসেছে এলিস সেই অজানা শত্রু তার পিছু নিয়েছে এখানেও। শুধু তাই নয়, চব্বিশ ঘণ্টা তার প্রতিটা মুভমেন্ট নজরদারিতে রেখেছে তারা। সু্যোগ খুঁজছে কখন হাসিল করতে পারবে সেই আইভরি কিউব যা তাদেরকে ভেদ করে দেবে “আলেকজান্ডার দি গ্রেট” এর অজানা রহস্য। ইতিহাস সবসময় মানুষকে অজানাকে জানার সুযোগ করে দেয়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিজয় ও তার বন্ধুরা মিলে জানতে পারে ন্যাশনাল মিউজিয়ামে রাখা আছে কিউব টার সাথে সম্পৃক্ত একটি লোহার প্লেট যা কিউবের গায়ে লেখা পদ্যগুলোর সমাধান করতে সাহায্য করবে। সেই সমাধানের উদ্দেশ্যে জাদুঘরে গিয়েই প্রথমবারের মতো হামলার শিকার হয় তারা। অন্যদিকে ইমরানের উপর প্রানঘাতি হামলা হয় তার নিজ বাসায়। আর রাধাকেও অপহরণ করে নিয়ে যায় সম্ভাব্য সেই অজানা শত্রুর একটা অংশ। এরপর শুরু হয় নানান বাধা, এডভেঞ্চার ও রহস্যের। রাধাকে উদ্ধার ও আলেকজান্ডারের গোপন রহস্য উদঘাটনের জন্য চলে অপাশবিক পরিশ্রম। গন্তব্য একবার নিয়ে যায় উজবেকিস্তানে তো আরেকবার নিয়ে যায় কাজাখস্তানে। কোথায় গিয়ে মিলবে সব কিছুর সমাধান? জানতে চাচ্ছেন? তাহলে পড়ে ফেলুন ক্রিস্টোফার সি ডয়েল এর লেখা ও মাসুম আহমেদ আদি ভাই এর অনুবাদকৃত বই “দ্য মহাভারত কোয়েস্ট দ্য আলেকজান্ডার সিক্রেট” বইটি। আদি ভাই এর ছোট গল্প তো ফেইসবুকে পড়িই সাথে উনার করা প্রথম অনুবাদ এবং এই বইটির প্রথম অংশ “দ্য মহাভারত সিক্রেট” বইটির মাধ্যমে শুরু হয়েছে উনার অনুবাদ পড়া। উনার আরেকটি অনুবাদ বই উইলবার স্মিথ এর লেখা “পাওয়ার অফ দ্য সোর্ড” যা গতো বইমেলায় এই বইটির সাথেই প্রকাশ পেয়েছে। এই তিনটি অনুবাদ ছাড়াও বেশ কিছু সংকলনে আদি ভাই এর লিখা গল্প আছে। বইটা আমার সংগ্রহে গত বছর থেকে থাকলেও অন্যান্য বই এর কারণে পড়া হয়ে উঠেনি। এবারে পড়েই ফেললাম। বইটায় অসংখ্য ইনফরমেশন সংরক্ষিত আছে বলবো। মেডিক্যাল সাইন্স ও ইতিহাসের তুমুল সংমিশ্রণ নিদারুণ ভাবে পরিলক্ষিত। শুরুটা অনেক গতিতে এগুলেও একেবারে শেষের অংশটা হঠাৎই ধির গতির হয়ে গিয়েছে। অনুবাদ খুবি সহজ ও সাবলীল ভাষায় করায় পড়তে কোনো প্রকার সমস্যা হয়নি। বইটার শেষের অংশে ভেতরকার অনেক গুলো অজানা নাম ও প্রযুক্তির বিশদ বর্ণনা দেয়া থাকায় নেট ঘাটার ঝামেলায় যেতে হয়নি। রোদেলা প্রকাশনীর বাইন্ডিং ও কাগজ খুবি ভালো। কিন্তু বেশ কিছু যায়গায় ফন্ট এলোমেলো হয়েছে। সবশেষে বলবো প্রচ্ছদের কথা। প্রচ্ছদটা আমার অসম্ভব পছন্দ হয়েছে। কারণ টা এখনো অজানা। বইঃ দ্য মহাভারত কোয়েস্ট দ্য আলেকজান্ডার সিক্রেট লেখকঃ ক্রিস্টোফার সি ডয়েল অনুবাদঃ মাসুম আহমেদ আদি প্রকাশনীঃ রোদেলা প্রচ্ছদঃ সাজিদ শুভ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৩১৯ লিখিত মূল্যঃ ৪০০৳
SIMILAR BOOKS
