ওকে গাইতে দাও কিশোরী দুই স্কুল-ছাত্রীর মনোজগতের এক চালচিত্র এ উপন্যাসিকা। এ এমন এক সময় যখন ফুলের পেলব পাপড়ির মতো আবেগমথিত মন জাগতে শুরু করে; অপার্থিব অজানা এক জগত হাতছানি দিয়ে ডাকতে থাকে অবিরাম।
এসময় একফালি নীলাকাশে ওড়া সবুজ ডানার একজোড়া পাখি, একখান চিরল পাতার চারাগাছ, মৃদুমন্দ বাতাসে তিরতির করা রঙিন কটি টিউলিপ কিংবা কোনো শ্যামল কিশোরের এক চিলতে হাসির ছটা ওদের কল্পনার ভেলা ভাসিয়ে নিয়ে যায় অনেক দূর।
অথচ মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ের কঠিন অনুশাসন ও কঠোর শৃঙ্খলাবোধ তুচ্ছ ঘটনায় জড়িয়ে অন্তর্মুখী নবনীত-কোমল সেই মনোজগতকে ঝড়ো হাওয়ার মতো বিধ্বস্ত করে ছাড়ে। অবুঝ কৌত‚হলী মনগুলো তখন হতবুদ্ধি ও হতচকিত হয়ে পড়ে ঘটনার আকস্মিকতায়।
গভীর মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে। লেখক পিঠাপিঠি দুবোন ও তাদের পরিবারটিকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এ-রকম এক ঘটনাই আঁকতে চেয়েছেন।
প্রতিটি বিদ্যায়তনে শুধুমাত্র লেখাপড়ার নিষ্প্রাণ চর্চা নয়, অনুশাসনের পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রতিপালন নয়- গভীর ভালোবাসাও মিশে থাকুক। এর সঙ্গে লেখক মণীশ রায় ওকে গাইতে দাও শিরোনামের নাতিদীর্ঘ এ উপন্যাসিকায় পরোক্ষভাবে একথাটাই বলতে চেয়েছেন।