“কবি শামসুর রাহমান ছায়ায় বসে কবিতা লেখার জন্য বিকেলে বৃক্ষের কাছে যান। বিভোর হয়ে তার শান্তরূপ দেখেন। পাতায় তখন রোদ পিছলায়। গানের সুরের মতো পাতার কলরোল কানে আসে। আলতো গাছের গাঢ় সবুজ শরীরটি ছুঁয়ে দেখেন, শিহরিত হন এবং ঝরাপাতার ঘ্রাণে টের পান নিজ জীবনের আসন্ন অস্তরাগ। তোমরাও কবিতা লিখতে, ছবি আঁকতে কিংবা শুধুই এমনি গাছের কাছে যেতে পারো। কবি যেভাবে গাছকে দেখেছেন সেভাবে দেখার চেষ্টা করো। দেখবে তোমাদের সামনে নতুন এক জগতের দুয়ার খুলে যাবে। সে জগৎ আনন্দের, সুন্দরের এবং জ্ঞানেরও। তবে গাছকে ভালোবাসতে হবে। না-ভালোবাসলে কাউকেই ঠিক চেনা যায় না, জানা যায় না। গাছের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতালে দেখবে সে তোমাদের কাছে টানছে, তোমরাও তাকে কাছে টানছ। গাছের গুঁড়িতে হেলান দিতে কিংবা উপরের ডালে চড়ে বসতে তোমাদের খুব ভালো লাগবে। পাতার শনশন আওয়াজ তোমাদেরও উদাস করবে। অদ্ভুত সব গন্ধ, আশ্চর্য সব রং তোমাদের নেশা ধরিয়ে দেবে। ওদের ফেলে আর চলে আসতে পারবে না। জানা-অজানা, চেনা-অচেনা অস্পষ্ট সব অনুভব তোমাদের কেবলই তাড়িয়ে বেড়াবে।” -দ্বিজেন শর্মা
দ্বিজেন শর্মা
দ্বিজেন শর্মার জন্ম ২৯ মে, ১৯২৯ বৃহত্তর সিলেট জেলার বড়লেখা থানার শিমুলিয়া গ্রামে। পিতা চন্দ্রকান্ত শর্মা, মা মগ্নময়ী দেবী। স্নাতকোত্তর পাঠ (উদ্ভিদবিদ্যা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে । শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু।। বরিশাল ব্রজমােহন কলেজ (১৯৫৮-৬২), ঢাকা নটর ডেম কলেজ (১৯৬২-৭৪), অতঃপর মস্কোর প্রগতি প্রকাশন সংস্থায় অনুবাদক (১৯৭৪-৯১)। কর্মসূত্রে অনুদিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ত্রিশ এবং নিজের লেখা চব্বিশ তন্মধ্যে অধিকাংশ বই প্রকৃতি, বিজ্ঞান ও শিক্ষা বিষয়ক । এগুলাের মধ্যে উল্লেখ্য : শ্যামলী নিসর্গ (১৯৮০), ফুলগুলি যেন কথা (১৯৮৮), মম দুঃখের সাধন (১৯৯৪), গাছের কথা ফুলের কথা (১৯৯৯), নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক। ভাবনা (২০০০), গহন কোন বনের ধারে (১৯৯৪), হিমালয়ের উদ্ভিদরাজ্যে ড্যালটন হুকার (২০০৪), বাংলার বৃক্ষ (২০০১), সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাসতত্ত্ব (১৯৮০), জীবনের শেষ নেই (২০০০), বিজ্ঞান ও শিক্ষা : দায়বদ্ধতার নিরিখ (২০০৩), সতীর্থবলয়ে ডারউইন (১৯৯৯), ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি (১৯৯৭), কুরচি তােমার লাগি (২০০৭) এবং সােভিয়েত ইউনিয়নে দীর্ঘ বসবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা সমাজতন্ত্রে বসবাস (১৯৯৯)। বাংলা একাডেমি ও শিশু একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ নানান সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তিনি প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি, প্রকৃতি সুরক্ষা এবং নগর ও উদ্যান সৌন্দর্যায়নের এই নিরলস কর্মী আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গণের এক বর্ণাঢ্য মানুষ।