আধুনিক বাংলা গানের ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলাম (জন্ম ২৪ মে ১৮৯৯ খ্রি. ১১ই জৈষ্ঠ্য ১৩০৬, মৃত্যু ২৯ শে আগস্ট ১৯৭৬ খ্রি. ২রা ভাদ্র ১৩৮৩, বঙ্গাব্দ)এর স্থান অবিস্মরণীয়। তিনি মনন ও সৌন্দর্যবােধের সুনিপুণ একাগ্রতায় তাঁর সংগীতকে সর্বজনীন করেছেন। তাই নজরুলসংগীত অদ্যাবধি স্বমহিমায় বাংলা গানের ধারাকে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করেছে। নজরুল বিভিন্ন ধারার সংগীতরীতির সঙ্গে পরিচিতি লাভ করেছেন। এ সংগীতজ্ঞান তাঁর রচিত সংগীতে পরিস্ফুট করেছেন । উল্লেখ্য যে, তিনি শিল্পচর্চার মাধ্যমে তাঁর প্রতিটি সংগীতকে গুরুত্ব দিয়ে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছেন । | বস্তুত শিল্পচর্চায় সৌন্দর্যবােধের প্রায়ােগিক বিষয়টি যুক্ত না হলে কোনাে শিল্প সৃষ্ট হতাে না। শিল্পের রসগ্রহণেও সৌন্দর্য দর্শন বিষয়টি অনস্বীকার্য। আদিম কালের শিল্পের সৌন্দর্যমূল্য নির্ধারণ করা হতাে না। আর শিল্পচর্চার বিষয়কেও সচেতনভাবে পর্যালােচনা করা হতাে না। তবে যে-মুহূর্ত থেকে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের শিল্পচর্চায় সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে, সে-মুহূর্ত থেকেই শিল্পী, দার্শনিক, শিল্পস্রষ্টা সৌন্দর্যবিষয়কে অধিক প্রাধান্য দিয়েছে। চিত্রকলার ক্ষেত্রে 'pottery', 'ornaments', মন্দির, মসজিদ, দেওয়াল চিত্র ইত্যাদি সবকিছুতেই শৈল্পিক গুণাবলির প্রয়ােজনটি লক্ষ করা গিয়েছে। এক্ষেত্রে মেসােপটেমিয়া ও পরবর্তী রােমান আর্ট ও গ্রিক আর্ট তাদের সৌন্দর্যবােধ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করেছে। এভাবে সময় ও সমাজের পটভূমি পরিবর্তনের মাধ্যমে শিল্পের সৌন্দর্যের ধারাগুলাে ভিন্ন ভিন্ন রূপ’ ('Form') লাভ করেছে। তবে সৌন্দর্যসৃষ্টির অগ্রগতি ও উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এর রীতিনীতির বহুল পরিবর্তন হয়েছে। সেসঙ্গে শিল্পের মধ্যে বাহুল্য লােপ পেয়েছে। ক্রমান্বয়ে শিল্পী ও শিল্পস্রষ্টা শিল্পের সৌন্দর্যপ্রকাশ করার প্রয়াসকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছে। আর তাই যুগপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পচর্চায় নানাবিধ রীতিনীতি ও অভিনব পদ্ধতির আবিষ্কার হলেও সৌন্দর্যবিষয়টি কখনও গৌণ করে দেখা হয়নি।
এভাবে প্রাচীন কালের সৌন্দর্যবােধের সঙ্গে মধ্যযুগ, লুপ্তযুগ ও আধুনিকযুগের সৌন্দর্যবােধের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য লক্ষণীয়। মুসলমানযুগেও শিল্পের এই সৌন্দর্যবােধের বিষয়কে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে