রক্তে তার বিপ্লবের আগুন-জ্বালানো আবেগ, যে আবেগে ঘরের আরাম হারাম হয়ে যায়, সে বিপ্লবীর নাম আর্নেস্তো গুয়েভারা, বিশ্ব তাকে চেনে চে গুয়েভারা নামে। সকল কিউবা বিপ্লবের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিÑ ফিদেল ক্যাস্ত্রোর পরই যে নাম স্বমহিমায় উঠে আসে, কিউবার জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। অথচ বিপ্লবীর জন্মসূত্রে স্বদেশ আর্জেন্টিনা। চে গোটা দক্ষিণ আমেরিকাকেই স্বদেশ ভাবতেনÑ শোষক উত্তর আমেরিকার হাত থেকে দক্ষিণের দেশগুলোর মুক্তির জন্য শপথ নেন, প্রাণ দেন নির্দ্বিধায়। তার চেতনায় এক সময় জন্ম নেয় বিশ্ববিপ্লবেরও স্বপ্নÑ আফ্রিকা থেকে এশিয়া।
বিশ্ববিপ্লবী চে গুয়েভারার সংগ্রামের কাহিনী, তার স্বপ্ন, তার সফলতা-ব্যর্থতার সংক্ষিপ্ত বয়ানÑ নিজস্ব বিচার ব্যাখ্যায় ‘মৃত্যুহীন বিপ্লবী চে গুয়েভারা’ বইটিতে তুলে ধরেছেন লেখক। চে’র ব্যক্তিজীবন ও বিপ্লবী জীবনের অনেক তথ্য রয়েছে এ বইতে।
আহমদ রফিক
প্রাবন্ধিক, কবি ও কলামিস্ট আহমদ রফিক (জন্ম: ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯২৯) ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত, তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তার শিক্ষাজীবন বারবার বিপর্যস্ত হয়। শিল্প ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, মূলত সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন এবং বর্তমানে সম্পূর্ণ সাহিত্যকর্মে সক্রিয়। তিনি রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলা একাডেমীর ফেলো এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জীবন সদস্য। তার উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে *শিল্প সংস্কৃতি জীবন* (১৯৫৮), *আরেক কালান্তরে* (১৯৭৭), *ভাষা আন্দোলন: ইতিহাস ও তাৎপর্য* (১৯৯১) এবং *রবীন্দ্রনাথের চিত্রশিল্প* (১৯৯৬) অন্তর্ভুক্ত। কবিতাগ্রন্থের মধ্যে *নির্বাসিত নায়ক* (১৯৯৬), *বাউল মাটিতে মন* (১৯৭০), *রক্তের নিসর্গে স্বদেশ* (১৯৭৯) উল্লেখযোগ্য। সাহিত্যক্ষেত্রে তার বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৫ সালে একুশে পদক এবং কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি লাভ করেন।