মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর এবং প্রাচীন। একইভাবে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের নির্মাণ, বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য বোঝার জন্যও সেখানকার অর্থনৈতিক কাঠামো বিশ্লেষণ জরুরি। তা যে কোনো কালপর্বের সমাজব্যবস্থা হোক না কেন। কেননা, চলকটি বিকাশের ধারাবাহিকতার সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। অর্থনীতি বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে ওঠে প্রাকৃতিক ব্যবস্থাপনা থেকে ক্রমশ উন্নততর শিল্প, সভ্যতা। পরিবর্তিত হয় জীবনযাপন পদ্ধতি, অবকাঠামোগত পরিবেশ।
মধ্যযুগ বাংলা অঞ্চলের বিশেষ একটি কালপর্ব। কেননা, ব্রিটিশ শাসনের আগে এদেশের নিজস্ব অর্থনীতি ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও গৌরবময়। কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরই তা নির্ভরশীল ছিল। বিশেষত বস্ত্র ও মসলা শিল্পপণ্যের চাহিদা তৈরি হয়েছিল বিশ্বজুড়ে। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনীতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। অনেক সম্ভাবনাময় শিল্প হারিয়ে যায় চিরতরে। সেসব ইতিহাসের গল্প আমরা লোকমুখে শুনে আসছি। কিন্তু কীভাবে সে সময়ের অর্থনীতি একটা মজবুত ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছিল, সেসব বিষয়ে বিচ্ছিন্নভাবে প্রচুর লেখা হয়েছে। বিস্তৃত বিশ্লেষণও রয়েছে কোনো কোনো গ্রন্থে। সাদিকুর রহমান সাম্প্রতিক লেন্স দিয়ে মধ্যযুগের অর্থনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করেছেন। এই নতুন সময়, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো তাঁর রচনার মধ্য রয়েছে। সেটুকুই আমাদের মনে আশা জাগিয়ে তোলে।
সাদিকুর রহমান
Title :
মধ্যযুগে বাংলার অর্থনীতি (১২০৪-১৭৫৭) (হার্ডকভার)