সৃষ্টির শুরু থেকে কিয়ামাত পর্যন্ত শয়তানের সাথে আমাদের শত্রুতা চিরন্তন। শুধু জিন-শয়তানই নয়, মানুষরূপী শয়তানও শত্রুতা ও ষড়যন্ত্রের জাল বুনে চলে সর্বদা মুমিনদের বিরুদ্ধে।
আমরা এমন এক যুদ্ধের মাঝে আছি—যেখানে একইসাথে আমাদের ঈমান, আমল, দ্বীন ও জমিন রক্ষা করা, দ্বীনকে বিজয়ী করা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করার জন্য, সঠিক সময়ে শত্রুকে চিনতে পারার কোনো বিকল্প নেই। কারণ, শত্রু সর্বদা ঘোষণা দিয়ে শত্রুতা করে না। অনেক শত্রু থাকে বন্ধুর বেশে। খুব কাছে। যেন-বা ঘরের মাঝেই। তাই যারা এ শত্রুকে চিনতে পারে না, তারা আসলে এই যুদ্ধে পরাজিতই হয়ে যায়। ইসলামী ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই, ঘরের শত্রুকে চিনতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে বারবার উম্মাহকে সীমাহীন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। আজও সেসব ক্ষতির ক্ষতচিহ্ন উম্মাহর শরীরে বিদ্যমান।
শাইখ ড. হানি আস-সিবায়ী
পুরো নাম হানি মুহাম্মাদ ইউসুফ আস-সিবায়ী। ১ মার্চ, ১৯৬১ সালে মিসরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মাস্টার্স ও পিএইচডি করেছেন ‘আল-ফিকহুল জিনায়িল মুকারান’ (Comparative Criminal Jurisprudence)-এর ওপর। ‘হাফ্স আন আসিম’ রিওয়ায়াতে তিন পদ্ধতিতে কুরআনুল কারিমের কিরাতের ওপর সনদপ্রাপ্ত তিনি। এছাড়াও প্রসিদ্ধ দুই কিরাত—‘বাযযী ও কুনবুল আন ইবনি কাছীর’ রিওয়ায়াতে কিরাতের ওপরও তিনি সনদপ্রাপ্ত। আকিদা ও তাফসিরের ওপর তিনি প্রায় পাঁচশ’রও বেশি লেকচার দিয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ে তার রয়েছে ডজনখানেক প্রবন্ধ। ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের ওপর রয়েছে উল্লেখযোগ্য কিছু টেলিভিশন সাক্ষাৎকার। সীরাত, ফিকহ ও ইতিহাস প্রসঙ্গে এবং সেকুলারিস্টদের খণ্ডনে তার বিশেষায়িত আরবি কোর্সও রয়েছে। রয়েছে ইংরেজিতে ঈমান-বিষয়ক (Issues of Iman) দারসও। আল্লাহ তার কর্মময় জীবনে আরও বারাকাহ দিন। উম্মাহর কল্যাণে আরও বেশি অবদান রাখার তাওফিক দিন। আমীন।