অমৃতপথযাত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ঔপন্যাসিকা। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চে নিরস্ত্র জনসাধারণের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের পর আত্মীয়ার বান্ধবী হিন্দু সুমনাকে কলকাতায় নিরাপদে পৌঁছে দেয় মুসলিম যুবক রনি। ঢাকা থেকে তাদের সীমান্ত অতিক্রম করা পর্যন্ত ঘটনার বিস্তৃত পরিচয় এতে তুলে ধরা হয়েছে। এই যাত্রাপথেই তাদের অনুসারিত প্রেমের সঞ্চার হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর সুমনা নিরাপদে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা রনি আর ফিরে আসেনি। তার স্মৃতিতে প্রতি বছর একটি দিনে সুমনা যেত যশোরের গ্রামে রনিদের বাড়িতে। দীর্ঘকাল পরে সুমনা বিয়ে করে, স্বামীকে নিয়ে তখন সে আগের মতোই যশোরে যায় এবং সবকিছু দেখে তার স্বামী অভিভ‚ত হয়।
লেখকের বর্ণনাকুশলতায় শুষ্ক সংবাদও পরিবেশিত হয় অসাধারণ আবেগের সঙ্গে। চরিত্রাঙ্কনে লেখকের দক্ষতা খুবই দৃশ্যমান। সর্বত্রই সংযমের পরিচয় আছেÑতা এই উপন্যাসকে বিশিষ্টতা দিয়েছে।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৬ নভেম্বর ২০১৮
মনজুর আহমদ
পেশায় সাংবাদিক। পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা। জন্ম ২২ ডিসেম্বর ১৯৪২, যশাের শহরের পাশে কাজিপুরের মুন্সীবাড়িতে। পৈত্রিক নিবাস ঝিনাইদহে। আদি বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা থানার বাখরবা গ্রামে। স্কুল জীবনেই দৈনিক সংবাদ’-এর ঝিনাইদহ সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। ১৯৬১ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় দৈনিক সংবাদ’-এ প্রথমে ছােটদের পাতা ‘খেলাঘর’-এর ভাইয়া ও পরে সহ-সম্পাদক পদে যােগদান। ১৯৬৮ থেকে দৈনিক বাংলায় (তখনকার দৈনিক পাকিস্তান)। ১৯৯৭ সালের ৩১ অক্টোবর সরকারি ঘােষণায় দৈনিক বাংলার প্রকাশনা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত এই একই পত্রিকায় বিভিন্ন পদে। এরপর নির্বাহী সম্পাদক হিসাবে বাংলাবাজার পত্রিকা ও দৈনিক অর্থনীতি এবং সহযােগী সম্পাদক হিসাবে দৈনিক দেশবাংলায়। ছাত্র ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। সাংবাদিকতায় উচ্চতর ডিপ্লোমা হাঙ্গেরীর ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব জার্নালিস্টস (আই ও জে)' থেকে ১৯৭২ সালে। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৪। বর্তমানে নিউইয়র্ক প্রবাসী।