লালন বাংলার বাউলসংস্কৃতির প্রধান পুরুষ। এই মরমি মহাজনের অন্তরস্পর্শী মনোহর পদাবলি দুই শতকেরও অধিককাল বাঙালির অধ্যাত্ম-ক্ষুধা ও রস-তৃষ্ণা নিবারণ করে চলেছে। প্রজন্ম-পরম্পরায় ক্রমে ক্রমে বহুমাত্রিক-লালন হয়ে উঠেছেন এক ধ্রপদি লোকব্যক্তিত্ব কালান্তরেও যাঁর আবেদন অক্ষুণ কী বাউলসম্প্রদায়ে, কী গ্রামীণ সমাজে, কী নাগরিক পরিমণ্ডলে, কী বিশ্বসভায়।
পঞ্চাশ বছরের অনুসন্ধান-অনুধ্যানে আবুল আহসান চৌধুরী লালনচর্চার যে ঋদ্ধ ধারা নির্মাণ করেছেন তার পরিচয়চিহ্নের স্মারক আমার লালন। মুগ্ধতা বা আবেগ নয়, নয় উদ্দেশ্যশাসিত মানসপ্রবণতা তাঁর নির্মোহ নিষ্ঠ মূল্যায়নে যে-লালন যুগপৎ মরমি ও দ্রোহী, সাধক ও সামাজিক, স্রষ্টা ও শিক্ষক, আত্মসমাহিত ও জাগরণের মশালচি তারই প্রকৃত স্বরূপ উদ্ঘাটিত হয়েছে। সেই চিন্তনের সারসংগ্রহই এই বই, আবুল আহসান চৌধুরীর আমার লালন।
ড. আবুল আহসান চৌধুরী
ডক্টর আবুল আহসান চৌধুরী সমাজমনস্ক ও ঐতিহ্যসন্ধানী লেখক। তার চর্চা ও গবেষণার বিষয় ফোকলাের, উনিশ শতকের
সমাজ ও সাহিত্য, সংবাদ-সাময়িকপত্র, আধুনিক সাহিত্য, আঞ্চলিক ইতিহাস ও সংগীত-সংস্কৃতি। লালন সাঁই, কাঙাল | হরিনাথ মজুমদার ও মীর মশাররফ হােসেন-বিষয়ক তার গবেষণা-কাজ দেশে-বিদেশে সমাদৃত। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা
| প্রায় একশাে। জন্ম ১৩ জানুয়ারি ১৯৫৩, কুষ্টিয়ার মজমপুরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর ও | পিএইচডি। প্রায় চল্লিশ বছর অধ্যাপনা-পেশায় যুক্ত। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর (পিআরএল)।
উল্লেখযােগ্য সম্মাননা-স্বীকৃতি-পুরস্কার : লালন পুরস্কার | (পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লালন মেলা সমিতি, ২০০০), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ পুরস্কার (কলকাতা, ২০০৮), গবেষণায় বাংলা একাডেমি