অর্ধ শতাব্দী আগের স্মৃতিকথা লিখতে গিয়ে দেখছি, জীবনচলার কত কথাই-না হারিয়ে গেছে চিরতরে, কিছু স্মৃতি ঝাপসা ও অস্পষ্ট, কিছু স্মৃতি আবার উজ্জ্বল রয়ে গেছে মনের মণিকোঠায়, একান্তে ও গােপনে। চলমান জীবনের স্মৃতিকে কোনাে শিল্পী আলােকচিত্রের মতাে গেঁথে দিয়েছে হৃদয়ে। তার কিছু কালের কবলে ঝাপসা হয়ে গেছে। তা থেকেই হাতড়ে হাতড়ে খুঁজে নিতে হবে। কিছুটা কল্পনায়। লিখছি স্যার আশুতােষ কলেজে শিক্ষকতা জীবনের এবং আমার যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময় নিয়ে। লিখছি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার ঐতিহ্যবাহী কানুনগােপাড়ার ছােট্ট সময়ের প্রতিচ্ছবি নিয়ে। প্রাসঙ্গিক আরাে কিছু এসে পড়েছে।
মনে পড়ে, স্যার আশুতােষ কলেজ কানুনগােপাড়ায় অধ্যক্ষ শহিদ শান্তিময় খাস্তগীর মহাশয়ের নিয়ােগপত্র নিয়ে সুদূর সিলেট থেকে বিছানা-সুটকেস নিয়ে রওনা হওয়ার কথা। আমার গ্রামের বাড়ি মুক্তিসংগ্রাম-খ্যাত তেলিয়াপাড়া স্টেশনের লাগােয়া সুরমা। পাশে রাশি রাশি সুদৃশ্য চা-বাগান। হবিগঞ্জের মাধবপুর থানার অখ্যাত স্টেশন তেলিয়াপাড়া বিখ্যাত হয়েছিল ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। সে কথা পরে হবে। এ এলাকায়ই আরাে পূর্বে ব্রিটিশবিরােধী বিপ্লবী দলের অসিত ভট্টাচার্যকে আত্মাহুতি দিতে হয়েছিল, তার দেশেরই কয়েকজনের হাতে। সেই বিপ্লবের কথাও বলব।
সুরমা-তেলিয়াপাড়া ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত থেকে ২-৩ মাইল দূরে। ইপিআর পরে বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) বাহিনীর অনেক ক্যাম্প; তাই সীমান্ত পাড়ি দেওয়া তেমন সহজ না। এখানে এখন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ হয়েছে। এতে পাথরে শহীদদের নাম ও ঘটনাবলী খােদাই করা আছে। পর্যটন কেন্দ্র এখন।
অধ্যক্ষ পার্থ প্রতিম চৌধুরী
বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার চা বাগান ও লাগােয়া ত্রিপুরার পাহাড় এলাকার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি বিজরিত তেলিয়াপাড়া-সুরমা গ্রামের বাসিন্দা, পার্থ প্রতিম চৌধুরী। গ্রামে আমাকে শংকর চৌধুরী হিসাবে চেনে। পিতা জনদরদী পবিত্র মােহন চৌধুরী। মাতা মায়া রাণী চৌধুরী। স্ত্রী রমা চৌধুরী। মেয়ে মম ও ছেলে পা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। পিতামহ কৃষ্ণকিশাের চৌধুরী জেলার শ্রেষ্ঠ উকিল ও জমিদার ছিলেন। সুরমা প্রাইমারী স্কুলে পড়াশুনা আরম্ভ করে সিলেট এইডেড হাইস্কুলে ১৯৫৮ পর্যন্ত পড়াশুনা। এরপর সিলেট এমসি কলেজ ও ঢাকা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স ১৯৬৪ সালে। ১৯৬৫ সালের নভেম্বরে স্যার আশুতােষ কলেজে রসায়ন বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যােগদান। দীর্ঘ ২৬ বত্সর অধ্যাপনার পর ১৯৯১ সালে চট্টগ্রামের হাজী মু মহসিন কলেজে বদলী। ২০০১ সালে অবসরের পর বােয়ালখালী জলিল আখিয়া কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন। ২০১৪ সালে পুরােপুরি অবসরে। এখন লেখালেখি ও দেশ ভ্রমণ করে আনন্দ পাই। বিগত ৫৩ বত্সর আমি চট্টগ্রামের বাসিন্দা। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সাবেক গভর্নর ডঃ মােঃ ফরাসউদ্দিন এবং কুমিল্লা বাের্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ডঃ আজিজুর রহমানসহ অনেকে আমার সহপাঠী। প্রথিতযশা প্রায় পঞ্চাশ হাজার ছাত্রের জন্য আমি গর্বিত।